Emma de Caunes  



Emma de Caunes is my favourite actress.

I saw her only film Mr Beans Holiday.

I found her very interesting- young, energetic, beautiful, smart and bubling with energy.

Below is some information about her takn from Wikipedia.

(Emma de Caunes born 9 September 1976) is a French film actress.

De Caunes is the daughter of French actor/director Antoine de Caunes and directorgraphic designer Gaëlle Royer. She was married to French singer Sinclair (real name Mathieu Blanc-Francard) who fathered her daughter Nina (born Paris, October 2002).

De Caunes's career began at the age of ten courtesy of a role granted by Michèle Reiser, her godmother. She obtained her Baccalaureate in film in 1995.

De Caunes appeared in various advertisements before landing her first major film role in Sylvie Verheyde's Un Frère. After her performance in the 1997 film, de Caunes won Most Promising Actress at the 1998 César awards and Best Actress at the 1997 Paris Film Festival, and was nominated for Best Actress in the Acteurs à l'Écran awards. She won the 2002 Prix Romy Schneider, an award given annually to a promising young actress. So far, her most recent role was an actress named Sabine in Mr. Bean's Holiday.

Read More...
AddThis Social Bookmark Button

লেনিন সমাধির ভবিষ্যত  

রাশিয়া এখন:
লেনিন সমাধির ভবিষ্যত


আমার স্মৃতি সেই সোভিয়েত দেশের যার সঙ্গে লেনিন অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত৷ লেনিন ছাড়া সোভিয়েত দেশ বা সোভিয়েত দেশ ছাড়া লেনিন কোনদিন কি ভাবা গেছে না যায় ? সোভিয়েত দেশে লেনিন কোথায় ছিলেননা ? সর্বত্র৷ রাস্তা, বাড়ী, লাইব্রেরী, মেট্রো, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কলখজ(collective firm), সাবখজ(State firm) সব লেনিনের নামে৷ লেনিন কমসোমল, লেনিন জাহাজ, লেনিন বন্দর, লেনিন শহর৷ প্রতিটি শহর, নগর, বন্দর, গ্রামে সব থেকে বড় রাস্তা, চক, কেন্দ্র, বিল্ডিং সব, সব, সব ছিল লেনিনের নামে৷ তার মূর্তি ছাড়া ভাবা যেতনা কোন শহর৷ তার বই পত্র লক্ষ লক্ষ কপিতে ছাপা হত, বই এর দোকান আর লাইব্রেরীর সব থেকে দৃষ্টিগোচর স্থানে থাকত তার রচনাবলী৷ কোন বক্তৃতা, কোন অনুষ্ঠান শুরু বা শেষ হতনা তার নাম উল্লেখ বিনা৷ লেনিনের ছিল এমনই এক সর্বব্যাপি উপস্থিতি৷

২০০৭ সাল৷ সর্বত্র খুজেছি তাকে৷ নেই তার নাম কোথাও৷ লেনিনের নাম তুলে দেবার জন্য ব্যাপক এবং সংগঠিত এক সরকারী ও বেসরকারী প্রচেষ্টা নজরে পড়লো সব শহরেই৷ কিন্তু তার উপস্থিতি মুছে ফেলা কি সোজা? সেই প্রমান সর্বত্র৷ বড় বড় শহরের বাইরে যে বিশাল রাশিয়া, সেখানে আজও লেনিন স্বমহিমায় বিরাজমান৷

দুদশক আগে মস্কোয় কয়েক বার লেনিন সমাধি দেখতে গেছি৷ প্রতিবারই অনেক বড় লাইনে দাড়াতে হয়েছে৷ এবার তিন তিন বার চেষ্টা করলাম৷ প্রতিবারই কোন না কোন বাহানায় বন্ধ থাকল৷ রেডিও, টেলিভিশন এবং পত্র পত্রিকায় প্রায়ই শোনা যাচ্ছে নানান গুজব৷ লেনিনের দেহ এখানে থাকবে কি থাকবেনা৷ সাধারণ রীতি অনুযায়ী তাকে কবর দেয়া হবে কি হবেনা তাই নিয়ে নানান অভিমত৷

১৯২৪ সনের ২১শে জানয়ারী লেনিনের মৃত্যু হয়৷ সারা রাশিয়া থেকে প্রায় ১০০০০ টেলিগ্রাম আসে সোভিয়েত সরকারের কাছে, একটাই প্রত্যাশা, সরকার যেন পরবর্তী প্রজন্মের মানুষের জন্য লেনিনের দেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন৷

২৩শে জানুয়ারীর সকালে বিখ্যাত রুশ বিজ্ঞানী আলেক্সেই আব্রিকসভ লেনিনের দেহকে emblame করেন যাতে লেনিনের শরীর কবর দেয়া অবধি অক্ষত থাকে৷২৩শে জানুয়ারী রাতে architect আলেক্সেই শুশেভকে দায়িত্ব দেয়া হয় তিন দিনের মধ্যে একটি সমাধিস্থলের পরিকল্পনা এবং রুপায়ণ করতে যাতে হাজার হাজার শোকাকুল মানুষ লেনিনকে শেষ বিদায় জানাতে পারেন৷ ২৬শে জানুয়ারী সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে রেড স্কোয়ারে ক্রেমলীনের দেয়ালের কাছে তার সমাধি স্থাপিত করা হবে৷ ২৭শে জানুয়ারী শুশেভ কাঠের তৈরী সমাধিস্থল নির্মান করেন আর সেদিন বেলা ৪টার সময় লেনিনের কফিন সেখানে স্থাপন করা হয়৷ মাস দেড়েকের মধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষ এখানে আসেন লেনিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে৷ আগস্ট মাসে শুশেভ সমাধিস্থলের আকার বাড়িয়ে তাকে এক বড়সড় চেহারা দেন৷ সেই সময়কার সোভিয়েত সরকারের এতটা আর্থিক সঙ্গতি ছিলনা যাতে লাল গ্রানাইট পাথরে এটি তৈরী করা যায়৷ তা হয়েছে অনেক পরে৷ এর সামনের দিকের সেই বিখ্যাত প্লাটফর্মও ছিলনা তখন যার উপরে দাড়িয়ে সব সোভিয়েত নেতারা সেনাবাহিনীর প্যারেড দর্শন করতেন৷ কাঠের সমাধি বানাবার আরো একটা কারন হল-তখনকার প্রযুক্তির মান অনুযায়ী কত দিন লেনিনের দেহ রাখা যাবে সে বিষয়ে সন্দেহ৷ ১৯২৯ সাল নাগাদ মনে করা হল যে লেনিনের দেহকে বেশি দিন রাখা যেতে পারে, অর্থাত্ সেই কলা কৌশল রুশ বৈজ্ঞানিকদের আয়ত্বে এসেছে৷ ঠিক করা হল যে কাঠের পরিবর্তে পাথর ব্যাবহার করা হবে৷ শুশেভ, ফ্রান্ট্সুজ আর ইয়াকভলেভ নামে তিন বাস্তুকারের নেতৃত্বে একটি দল marble, porphyry, granite, labradorite এবং অন্যান্য মাল মশলা ব্যাবহার করে তৈরী করলেন আজকের সমাধির৷ ১৯৩০ সালে পাথরের কাজ শেষ হয়৷ ইতিমধ্যে ১৯২৪ সালে মস্কোর সেনাবিভাগের জারী এক বিজ্ঞপ্তিতে সমাধিতে Guard of Honour এর ব্যাবস্থা করা হয়৷ রাশিয়ানরা একে এক নম্বর সেন্ট্রি বলে আখ্যা করে৷ সেনাবাহিনী থেকে বাছাই করা, সব থেকে পটু, কুশলী, লম্বা, কমবয়সী জোয়ানদের এখানে পাহাড়ায় লাগানো হত৷ ক্রেমলীনের ঘড়ির ঘন্টার শব্দের সঙ্গে সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে দুজন সেনা হাতে বেয়নেট উচিয়ে মার্চ করে যেত লেনিন সমাধির দরজায়৷ ঠিক একই চেহারার আরো দুজন ইতিমধ্যে ওখানে দাড়িয়ে৷ এরা যেয়ে ঠিক তাদের সামনে দাড়াত৷ সবার চেহারার ভীষণ মিল৷ ঘড়ির শেষ ঘন্টার সঙ্গে চোখের নিমিষে তারা স্থান বদল করত৷ কখনই বোঝা যেতনা কারা এল বা কারাই গেল৷ এই দৃশ্য দেখবার জন্য প্রতি ঘন্টায় লেনিন সমাধির সামনে লাগত উত্সাহী জনতার ভীড় ( সোভিয়েত সরকারের পতনের পর ১৯৯৩ সালে রাশিয়ায় সাংবিধানিক সঙ্কটের সময় এ সেন্ট্রি প্রথা বন্ধ করা হয়)৷

এর পর এল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কাল৷ নাজী বোমারু বিমান হানার হাত থেকে সমাধি স্থল কে বাঁচানোর জন্য এর চার পাশ ঘিরে একটা বাড়ীর মত করা হল৷ ১৯৪১ সালে অগ্রসরমান নাজী বাহিনীর হাতে মস্কো শহরের পতনের আশঙ্কায় লেনিনের দেহ সাইবেরিয়ার তুমেন শহরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়৷ যুদ্ধের পরে দেহ আবার স্বস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়৷ জার্মানির পতনের পর এর সামনে সেই বিখ্যাত প্লাটফর্ম তৈরী করা হয় যার কথা আগে বলেছি৷এ যাবত সমাধিস্থলটি লেনিনের নামেই থাকে৷ সামনের দিকে বড় বড় অক্ষরে রুশ ভাষায় লেখা থাকত- লেনিন৷ ১৯৫৩ সালে স্টালিনের মৃত্যু হয়৷ তখন তার দেহ লেনিনের পাশে স্থান পায় এবং সামনের দিকে বড় বড় অক্ষরে রুশ ভাষায় লেনিনের নামের নীচে লেখা হয়-স্টালিন৷ সঙ্গের দেয়া ছবিতে তখনকার সমাধি স্থল দেখা যাচ্ছে৷ তখন থেকে ৩১শে অক্টোবর ১৯৬১ অবধি স্টালিনের দেহ লেনিনের পাশেই থাকে৷ ক্রুশ্চেভ জমানায় স্টালিনের দেহ তুলে ক্রেমলিনের দেয়ালের কাছে কবর দেয়া হয়৷ শুরু থেকে আজ অবধি কয়েক কোটি মানুষ লেনিন সমাধি দর্শনে এসেছেন৷ প্রতি বছর একবার লেনিনের দেহকে নানা রকমের রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে মাখানো হয় যাতে তা নস্ট না হয় আর দেখতে আসলের মত থাকে৷ আমার দেখে মনে হয়েছে চামড়ার রঙ অস্বাভাবিক রকমের দেখতে -অনেকটা খেলনার মত৷

অনেকে আবার সন্দেহ প্রকাশ করে থাকেন এটা আদৌ লেনিনের দেহ কিনা৷ আগের সোভিয়েত বা বর্তমান রুশ সরকার এ বিষয়ে কখনই আলোকপাত করেননি যে লেনিনের শরীরের কতটা অংশ আসল বা নকল৷ তবে যে সমস্ত বিজ্ঞানী বা ইন্জিনীয়ররা লেনিনের শরীর সংরক্ষণের কাজে গত কয়েক দশক ধরে কাজ করেছেন বা করছেন তাদের পরিবারের লোকজন কিন্তু বলে থাকেন যে দেহ সত্যি আসল কিন্তু একে রক্ষণাবেক্ষণ করতে প্রতিদিন অনেক অনেক কিছু করতে হয়৷ যেমন দেহকে moisturize করা, ওষুধ ইনজেকশন দেয়া ইত্যাদি৷ তারা আরো বলেছেন যে নাকি নিয়মিত ভাবে বছরে একবার তাকে বের করে নিয়ে চান করানো হয়৷ এর কতটা সত্যি বা মিথ্যা তা আমি জানিনা৷
বরিস ইয়েল্তসিন উঠে পড়ে লাগেন লেনিনের দেহ এখান থেকে সরানোর জন্য৷ এ ব্যাপারে তাকে মদত্ দেয় রুশ অর্থোডক্স চার্চ৷ কিন্তু তার আমলে এ কাজ করতে তিনি সফল হননি৷ সোভিয়েত সরকারের পতনের পর প্রথম কয়েক বছরে খুব চেষ্টা হয় দেহকে সরাবার৷ কিন্তু আপামর জন সমাজের চাপে, রুশ কমুনিস্ট পার্টির দ্বারা চালিত অভিযানের ফল স্বরুপ কেউ এখনো অবধি এ কাজটি করে উঠতে পারেনি৷ আসলে রাশিয়ার বহু মানুষ যাদের জন্ম, শিক্ষা, চাকরী সব সোভিয়েত জমানায়, তারা যদিওবা কমুনিস্ট নন বা কমুনিস্টর পার্টিকে সমর্থন করেননা কিন্তু লেনিনকে এ রাষ্ট্রের জনক হিসাবে মানেন আর তারা চাননা লেনিনের দেহকে এখান থেকে সরানো হোক৷ যারা দেহ সরাবার পক্ষে তাদের অনেকে এমন বলে থাকেন যে লেনিন তার বোনের কাছে এক চিঠিতে লিখে গেছেন যে তার মৃত্যুর পর তার দেহ যেন কবর দেয়া হয়৷ আর এ বিষয়েরই উল্লেখ করে তারা বলেন যে তার দেহ মস্কোর সমাধি থেকে লেনিনগ্রাডে তার আত্মীয় স্বজনের সাথে এক স্থানে কবর দেয়া হোক৷ এ সমস্ত লোকেদের চেষ্টা এখনো অবধি হৈ চৈর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে৷ তারা কেউ কেউ এমনো বলেছেন যে আর বছর কুড়ি অপেক্ষা করলে সোভিয়েত জমানার মানুষের সংখ্যা এত কমে আসবে যে প্রতিরোধের জন্য কেউ অবশিষ্ট থাকবে না৷ তখন নির্বিবাদে লেনিনের দেহ সরিয়ে ফেল্লে হল৷ কিন্তু তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ রুশ কমুনিষ্ট পার্টির সমর্থকরা প্রতিবছর নিয়মিত ভাবে এখানে মে দিবস, বিজয় দিবস (৯ই মে), বিপ্লব দিবস(৭ই নভেম্বর) ইত্যাদি পালন করে এই অঙ্গীকার নেন যে এখান থেকে লেনিনের দেহকে কিছুতেই সরাতে দেয়া হবেনা৷
সমাধিস্থল সোম থেকে শুক্রবার প্রতিদিন সকাল ১০০০ থেকে বেলা ১৩০০ অবধি খোলা থাকে৷ আজও সেখানে সব সময় লম্বা লাইন দেখা যায়৷ কোন ফটো বা ভিডিও তোলা নিষেধ৷ এই লেখার সাথে লেনিনের ছবিটি ইন্টারনেট থেকে নেয়া৷লেনিনের দেহ সংরক্ষণ এবং জনসমক্ষে প্রদর্শনের ব্যাবস্থায় অনুপ্রেরিত হয়ে মাও সে তুং, হো চি মিন আর কিম ইল সুং এরও সমাধি তৈরী হয়েছে৷
লেনিনের দেহ নিয়ে বাদ বিদাদ চলছে৷ রেড স্কোয়ারে সমাজতন্ত্রের সবচেয়ে বড় প্রতীক থাকবে কি থাকবে না তা নির্ভর করবে আগামী দিনে রুশ কমুনিষ্ট পার্টি ও লেনিন অনুগামীদের জনসমর্থন ও ক্ষমতার উপরে৷ আর তা বুঝতে হলে জানতে হবে আজকের রাশিয়ায় রুশ কমুনিষ্ট পার্টির স্থান ও ক্ষমতা কতটুকু৷ সে বিষয়ে বিস্তারিত পরের বার৷



এই লেখাটি এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ে আমার ব্লগেও পড়তে পারবেন http://indmusings.blogspot.com/ আপনার মতামতও সেখানে জানাতে পারেন৷

Read More...
AddThis Social Bookmark Button

২০০৮এর রেড স্কোয়ার রাশিয়া এখন  

রাশিয়া এখন
২০০৮এর রেড স্কোয়ার



আগের লেখায় লিখেছি এবার প্রথম যেদিন রেড স্কোয়ার গেলাম- সে এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা৷ ঠিক ঢোকার মুখে একি, খৃষ্স্টের মন্দির৷ পাশে ছিল লেনিন মিউজিয়ম, তার সব সাইনবোর্ড উধাও৷ তবে কি লেনিনের সমাধি, তাও আর নেই? সে কথা বলব, তবে রেড স্কোয়ার হয়েইতো লেনিন সমাধি যেতে হয়, তাই তার কথাই আগে বলি৷

মস্কো পৌছে থেকেই রেড স্কোয়ার যাবার ভীষণ ইচ্ছা৷ এবারে উঠেছি বন্ধুবর আশীষ দাসের বাড়ী, দমোদিয়েদভাতে, তা মস্কো শহরের বাইরে এবং রেড স্কোয়ার থেকো প্রায় মাইল পন্চাশেক দুরে ৷ আপনারা সবাই জানেন যে রেড স্কোয়ার মস্কো শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি বিখ্যাত চক বা স্কোয়ার৷

বেশি বড় নয়, মাঝারি আকারের এক খেলার মাঠ৷ লম্বায় বেশি, চওড়ায় কম৷ শহরের অনেক রাস্তার শুরু এখান থেকে তাই রেড স্কোয়ারকে মস্কোর এবং রাশিয়ার কেন্দ্রবিন্দু বলে বিবেচনা করা হয়৷ কালো পাথরে মোড়া, এক দিকে লেনিন মাভজলেই(সমাধি), তার পিছনে ক্রেমলিন, রুশ সরকারের কর্মস্থল, উল্টো দিকে, বড় সড় আকারের বিখ্যাত এক সুপার মার্কেট, নাম যার গুম৷গুমের পুরো হল রাশিয়ানে গসুদার্স্টভেন্নি উনিভার্সালনি মাগাজিন বা সরকারি সুপার মার্কেট৷ এটি সোভিয়েত আমলে সারা দেশের মধ্যে একটি বড় সুপার মার্কেট হিসাবে পরিচিত ছিল সেই আমাদের আমলেই অর্থাত ৭০, ৮০র দশকে৷ আজও মনে পরে, প্রথমে আমরা সবে মস্কোয় গেছি নিউবারাকপুর থেকে, যেয়েই সাতদিন ধরে গৃহবন্দী, কি না স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলবে, অর্থাত বাইরে যাওয়া বন্ধ৷ সব ধরনের পরীক্ষা টরীক্ষা হল৷ তার পর দিন আমাদের ক্লাস টীচার দল বেধে আমাদের নিয়ে চল্লেন বাসে করে, আমাদের জামা কাপড় কিনে দেওয়াতে রেড স্কোয়ারের পাশের, মস্কোর সব চেয়ে বড় সুপার মার্কেটে- গুমে৷ সেই প্রথম আমার গুম দেখা৷ লম্বা লম্বা ৩ সারি, প্রত্যেক সারিতে একের পর এক দোকান, উপরে একতলা, দোতলা, তিনতলা সর্বত্র দোকান, তাতে পাওয়া যেতনা এমন কিছু নেই৷ জামা কাপড়, বাসনপত্র, আসবাব, কি ছিলনা সেখানে ? আমাদের পছন্দ ছিল খুব সস্তায় ভাল আইসক্রিম পাওয়া যেত ২০ কোপেকে৷ সাদা পোষাক সাদা টুপি পরা আইসক্রিম বিক্রেতারা হিমসিম খেয়ে যেত ভিড় সামলাতে৷ দেখতে না দেখতেই আইসক্রিম শেষ৷ আবার ছুটে এক নিমেষে গলির মোড় থেকে ম্যাজিকের মত নিয়ে আসত আইসক্রিম৷

২০০৮ এর গুম বদলে গেছে অনেক৷ সেখানে এখন শুধুই ডিজাইনার এবং ব্রান্ডেড্ পোষাক পাওয়া যায়৷ আইসক্রিম আছে তবে মোড়কে মোড়া, নেই সেই স্বাদ, রং ও গন্ধ৷ আর দাম না জিগ্বেস করাই ভাল৷ ২০ কোপেকের আইসক্রিম এখন বিকোচ্ছে ২০ রুবলে৷ ভারতীয় মুদ্রায় যার দাম ৩২ টাকা৷ এবারে যাত্রায় সেপ্টেম্বর অক্টোবর দুমাসে বেশ কয়েকবার যখনই রেড স্কোয়ার গেছি , গুমে ঢুকে নিরাশ হতে হয়েছে বেশি কারণ সব জিনিস সাধারণ মানুষের ধরা এবং ছোয়ার বাইরে৷ রেড স্কোয়ারে দাড়িয়ে পুবমুখো তাকালে ডানদিকে পড়ছে লেনিন মাভজলেই(সমাধি), বা দিকে পড়ছে গুম৷ পেছন দিক দিয়ে পড়ে রেড স্কোয়ারে ঢোকার রাস্তা৷ সেই রাস্তার একদিকে ঐতিহাসিক মিউজিয়ম (Historical Musuem), অন্যদিকে লেনিন মিউজিয়ম ( Lenin Musuem)৷ মাঝখান দিয়ে কালো পাথরে মোড়া রাস্তা দিয়ে ঢুকতে হয়৷ সেইখানে হঠাতই এক ছোট আকারে এক গীর্জা বসানো হয়েছে, অর্থাত রেড স্কোয়ার ঢুকতে হলে আপনাকে প্রায় গীর্জার গায়ে গা লাগিয়ে যেতে হবে৷ আমারতো মনে হয় যে রেড স্কোয়ারের সৌন্দর্যের অনেকটাই বিঘ্নিত হয়েছে এই গীর্জার উপস্থিতিতে৷

সম্পাদক মশাই যদি আমার ঐ ছবিটি ছাপেন তাহলে দেখতে পাবেন সেই গীর্জাকে৷ তবে হ্যাঁ, এর পরে যত জায়গায় ঘুরেছি সর্বত্র চোখে পড়েছে নতুন নতুন চার্চ বানানো বা পুরানো চার্চে রঙ করাবার যেন ব্যাপক হিড়িক পরে গেছে৷ সোভিয়েত জমানার সমস্ত চিহ্ণ বদলাবার জন্য সরকারী তরফে প্রয়াস লক্ষনীয়৷


রেড স্কোয়ার ঢোকার মুখে খৃষ্স্টের মন্দির

এই গেটের বাদিকে (ছবিতে দেখা যাচ্ছেনা) লেনিন মিউজিয়ম৷ ছিল, কিন্তু আর নেই৷ বিশাল মিউজিয়ম ছিল, আমরা ছাত্র থাকাকালীন কতবার সেখানে গেছি, লেনিন সম্পর্কিত কত বই পত্র ইত্যাদি ছিল৷ আর আজ তাতে একটা সাইনবোর্ড অবধি নেই৷ চার পাশ দিয়ে ঘুরে অনেক খুঁজেও পেলাম না কোন চিহ্ন যা দিয়ে বোঝা যায় যে এই বিশাল বাড়ীটা এক কালে কত জমজমাট কত বিখ্যাত ছিল৷ মুল দরজার দিকে গিয়ে দেখি, মস্কোর টুরিস্ট বাসের টিকিট বিক্রী হচ্ছে সেখানে৷ আমাদের ভারতীয় বিবেচনায় দুই বাঙ্গালী জিগ্বেস করলেন ইংরেজীতে বলতে পারেন রেড স্কোয়ারটা ঠিক কোথায়৷ বুঝিয়ে দিয়ে বল্লাম কি করে যেতে হবে৷ তারা কলকাতা থেকে আসছেন, কথাবার্তার ধরণে বুঝতে অসুবিধা হয়নি৷ মজা লাগল এই ভেবে যে আজকাল কলকাতা থেকে অনেকেই রাশিয়া আসছেন বেড়াতে৷ আরোফ্লত সস্তার টিকিট দিচ্ছে ২০০০০ এ যাওয়া আসা৷ খারাপ নয়৷ যে কথা বলছিলাম, লেনিনের নাম মুছে দেবার প্রয়াস অব্যাহত৷ আমাদের সময়ে মস্কো মেট্রো(ভুগর্ভস্থ রেলপথ) করে রেড স্কোয়ারে আসতে হলে যে স্টেশনে নামতে হত তার নাম ছিল মার্কস প্রসপেক্ট(Prospect Marxa), তার আগের স্টেশনের নাম ছিল লেনিন লাইব্রেরী, তারও কয়েক স্টেশন আগে লেনিন স্টেডিয়ামের স্টেশনের নাম ছিল লেনিন পাহাড়৷ আজ এসব বদলে গেছে৷ মেট্রোয় চড়ে স্টেশনের লিস্ট দেখে বুঝে উঠতে পারিনা রেড স্কোয়ারে যেতে হলে কোন স্টেশনে নামতে হবে৷ এক সহযাত্রীকে জিগ্বেস করে জানলাম যে মার্কস প্রসপেক্ট(Prospect Marxa) স্টেশনে নামবার কথা কিন্তু এই স্টেশনটি বন্ধ আছে তাই অন্য একটি কাছের স্টেশন যার নাম থিয়েটার চক, তাতেই নামতে হবে৷ থিয়েটার চক থেকে বেরিয়ে আমার এত পরিচিত জায়গা, কিন্তু কিছুই আর চিনতে পারিনা৷ কারণ, ফুটপাত জড়ে গোলাকার, চৌকো নানান রঙের ছাতার নিচে সারি সারি দোকান তাদের পসরা সাজিয়ে বিক্রীবাটা করছে৷ এ দৃশ্য আগে ভাবা যেতনা৷ এখন সবাই ব্যাবসাদার৷ এর আগে বলেছি ব্যাঙের ছাতার মত সারা শহর জুড়ে চার্চের মেলা তার সঙ্গে আরো জুড়ে দেওয়া যায় দোকানদারী৷ দোকান আর দোকান শুধু দোকান৷ পূজীতন্ত্রের লাভ উঠাতে সবাই ময়দানে নেমে পড়েছে৷ এই সমস্ত দোকানদের পাশ কাটিয়ে আমরা চলেছি, হঠাত নজরে পড়লো লেনিন মিউজিয়মের মুল দরজার পাশে স্লোগান মুখরিত একদল বৃদ্ধ বৃদ্ধা লাল পতাকা হাতে, সবাই মিলে স্লোগান দিচ্ছে, ইন্টারনেশানাল গান গাইছে৷ কেউ কেউ আবার কিছু পত্রিকা বিক্রী করছে৷ কেউ চাঁদা সংগ্রহ করছে কৌটো ঝাকিয়ে৷ এরা কারা, রাশিয়ান কমুনিস্ট পার্টির কেউ , কাছে দিয়ে দেখি এরা বলশেভিক, পুরানো কমুনিস্ট, এরা সবাই সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিরে চায়৷ পাশ দিয়ে জনগন চলেছে, কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই৷ মাঝে মাঝে পুলিস এদের হটাচ্ছে৷ এ দৃশ্য কোন দিন ভাবা যেতনা সোভিয়েত ইউনিয়নে৷ কয়েকটা পত্রিকা কিনলাম জানতে এরা কারা৷ এরা কমুনিস্ট পার্টির নানান উপদলের সদস্য৷ সবাই অবসর প্রাপ্ত৷রাশিয়ার নতুন পুঁজীবাদের স্টিমরোলারের নিচে এরা সবাই পিষ্ট৷ এক হেরে যাওয়া লড়াইয়ের সৈনিক৷

এদের পাশ কাটিয়ে একটু দুরে চলে এসেছি৷ রেড স্কোয়ারে ঢোকার আরও একটি গেট৷ এর পাশেই অজানা সৈনিকদের স্মৃতিসৌধ৷ ঠিক ক্রেমলীনের দেওয়ালের পিছনেই৷ সোভিয়েত আমলে দেশি বিদেশি নেতারা মস্কোয় এলে লেনিন সমাধির পরে দ্বিতীয় যে স্থানে অতি অবশ্যই যেতেন তা হল এই অজানা সৈনিকদের স্মৃতিসৌধ৷ ক্রেমলিনের দেওয়ালের ঠিক পিছনে লাগোয়া৷ ২৪ ঘন্টা সেখানে জ্বলে আগুন৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে সমস্ত সোভিয়েত সৈন্যেরা প্রাণ দিয়েছেন দেশের রক্ষায় তাদের স্মৃতিতে এই সৌধ৷

রেড স্কোয়ারে ঢুকতে নিয়েছি, ২ জন পুলিস বাধা দিয়ে বল্ল ঢোকা যাবেনা রেড স্কোয়ার বন্ধ, সে কি কেন, জিগ্বেস করায় বল্ল কিছু ইউরোপীয় দেশের মিলিটারী ব্যান্ডের অনুষ্ঠান চলবে এক সপ্তাহ কাল তাই রেড স্কোয়ার বন্ধ থাকবে ৷ এমনতো কোন কালে হয়নি যে রেড স্কোয়ার বন্ধ থাকবে এতদিন ধরে৷ কিন্তু আমরা খালি লেনিন সমাধি দেখতে চাই তাও যাওয়া যাবোনা৷ কি আর করা যাবে, এযাত্রায় হবেনা৷ আবার আসব৷ আসতে হবে বিশেষ করে, কারণ সোভিয়েত দেশ পতনের পরে প্রথম ১৫ বহু বছর অনেক চেষ্টা হয়েছে লেনিনের দেহ এখান থেকে তুলে দেবার৷ বিশেষ করে ইয়েল্টসিন অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্ত সফল হয়নি সে প্রয়াস৷ কি সেই চেষ্টা আর সমুহ রাষ্ট্রশক্তি সব জোর লাগালেও কেন তা সফল হয়নি৷ কেন লেনিনের সমাধি আজও রেড স্কোয়ারে বিরাজমান সে কথা বিস্তারিত বলব পরের বার৷ লেনিনের সমাধির ইতিহাস, কি করে তা তৈরী হয়েছিল আর কি ভাবে হাজার লক্ষ মানুস, কমুনিস্ট, অ-কমুনিস্ট, এক নিরব নিরন্তর লড়াই করে চলেছেন আজও লেনিনের সমাধিকে রেড স্কোয়ারে রাখতে তার কাহিনী৷ চোখ রাখুন নগরের কথার পাতায়৷
এই লেখাটি আমার ব্লগেও পড়তে পারবেন http://indmusings.blogspot.com/ আপনার মতামতও সেখানে জানাতে পারেন৷

Read More...
AddThis Social Bookmark Button

Russia Now রাশিয়া এখন (বাংলা ব্লগ)  


This is a travelogue on Russia. It is written in Bengali.

Photo credit atbaker

রাশিয়া এখন

২০০৭ এর সেপ্টেন্বরে দুমাসের জন্য হঠাত্ এক সুযোগ এসে গেল রাশিয়া যাবার ৷

১৯৮৪ সালের ১৩ই মে ছিল এক রবিবার৷ আমি ১২ বছর একনাগাড়ে থাকার পর সেই সন্ধায় মস্কোর শেরেমিতিয়েভা এয়ারপোর্ট থেকে দেশের প্লেনে চড়ি৷

সেদিনের পর অনেক দিন কেটেছে, খুব প্রচলিত এক কথায় বলতে গেলে গঙ্গা ও ভল্গা দিয়ে বয়েছে অনেক অনেক জল৷ সোভিয়েত ইউনিয়ন নামের দেশ আর নেই, নেই পৃথিবীর বৃহত্তম সমাজতান্ত্রিক দেশ৷ ১৯৮৪র সেই দিনে এসবের কিছু টের পাইনি আমরা ঘুনাক্ষরেও৷ তাই ভারতে ফিরবার আগের রাতে আমার পিএইচডির গাইড, অধ্যাপক ভিক্তর, লেনিনস্কি প্রসপেক্ট(রাস্তা)র তার ২ রুমের ফ্লাটে রাতে খাবার আমন্ত্রণ জানান৷ অনেক অনেক কথা হয় সেদিন৷ কি কারণে জানিনা এক প্রশ্নের উত্তরে আমি নির্দ্বিধায় জানিয়েছিলাম যে এইতো দেশে যাচ্ছি, বছর ছয়েক পরে একটু থিতু বিতু হলেই ১৯৯০এ বেড়াতে আসছি মস্কোয় আবার আপনাদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাত করতে৷

আমি জানিনা কেন সেদিল ১৯৯০ সালের কথা বলেছিলাম, হয়তো বা মনের কোনে এমন একটা ভাবনা ছিল যে ভারত ফিরে থিতু হতে, চাকরী , পরিবার এসবের জন্য বছর ৬ নিশ্চয় লাগবে, তার পর আমার সুযোগ আসবে আবার আসবার৷ আমার মনে পড়ে সেই ১৯৮৪ সালে মস্কো ছাড়বার আগেই নস্টালজিক ছিলাম৷ ১৯৮৪ সালের মস্কো ছিল সত্যি সুন্দর এক শহর৷ অনেক অনেক খোলা মেলা জায়গা নিয়ে এ শহর৷ ক্ষমতায় শক্তিশালী এক কমুনিস্ট পার্টি যা সফল ভাবে দেশ চালনা করছিল৷ তখন আমার আসার ঠিক আগের ৩ বছরে নেতৃত্বের বদল ঘটে৷ ব্রেঝনেভ মারা যান ১৯৮২তে, তারপর আন্দ্রোপভের মৃত্যু হয় ১৯৮৩তে, চেরনেন্কো ক্ষমতায় আসেন৷ তার মৃত্যু হয় ১৯৮৫ সালে৷ তারপর ক্ষমতায় আসেন সোভিয়েত ইউনিয়নের শেষ নেতা৷ মিখাইল গর্বাচোভ৷ যাই হোক যে কথা বলছিলাম, ১৯৮৪তে আমার আসবার সময় অসুস্থ চেরনেন্কো ক্ষমতায় আসেন৷ তিনি ছিলেন যথেষ্ট বয়স্ক কিন্তু সবাই এতে অভ্যস্তই ছিল৷ সব নেতারাই ছিলেন যথেষ্ট বয়স্ক৷ আমার ঠিক আসবার সময়ে আরো একটি ঘটনা ঘটে৷ সোভিয়েট ইউনিয়ন উত্তর কোরিয়ার একটি যাত্রী বাহী বিমানকে গোয়েন্দা বিমান সন্দেহে গুলি করে নামায়৷ মৃত্যু হয় অনেক মানুযের৷ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রীগান সোভিয়েট ইউনিয়নকে শয়তানের সাম্রাজ্য আখ্যা দেয়৷ আমরা মস্কোয় জানতাম যে সত্যি ওটা স্পাই প্লেন ছিল কারণ সেই প্রথম সোভিয়েট টিভিতে পর পর বেশ কয়েক দিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে ব্রিফিং দেয়া হত৷ এ সবের পটভুমিকায় আর একটি ঘটনা ঘটছিল- সোভিয়েত সৈন্যরা লড়ছিল আফগানিস্তানে৷ যে লড়াই শেষ হয় সোভিয়েত পতনের সঙ্গে সঙ্গে৷ তখন আমরা ছাত্ররা এসব নিয়ে একদম চিন্তিত ছিলাম না৷ আমাদের বয়স ছিল কম৷আমরা সোভিয়েত নেতৃত্বের ক্ষমতায় বিশ্বাসী ছিলাম৷ মস্কোর জীবন স্বাভাবিক লয়ে চলছিল৷ আমি ১২ বছর পর ভারতে ফিরবার জন্য তৈরী হচ্ছি৷
বন্ধুরা কেউ রয়ে গেল, কেউ চলে এল আমার সাথে৷!

আমার প্রফেসরের সঙ্গে সেই সাক্ষাত হল, তবে তা বছর ৬ পরে নয়, ঠিক ২৩ বছর পরে৷

এবারে যাবার আগে থেকেই অনেক দুঃশ্চিন্তা ছিল! নানান্ কারণে! কি দেখব, কেমন সব কিছু পাব ইত্যাদি, ইত্যাদি! সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখ রাত ৪৩০এ বিশালকায় এরোফ্লত বিমানের ভেতরে ঢুকে নজরে পড়ল একদল বিমান সেবকদের যারা অবাধ্য ভারতীয় যাত্রীদের সামাল দিতে ব্যস্ত৷ আজকাল এরোফ্লত বিমানে বিনামুল্যে মদিরা দেয়া বন্ধ, এই সমস্ত ভারতীয় যাত্রীরা আগে থেকেই পানাহার করে আসায় তাদের ভোলচালে খুব একটা কিছু করে দেখাবার ইচ্ছা প্রবল ছিল, আর তাদের সব এনার্জি তাই বিমান সেবকদের দৃষ্টি আকর্ষণেই চালিত ছিল৷ বলা বাহুল্য যে, কি জানি কোন কারণে এরোফ্লতের বিমানে, সেবিকাদের তুলনায়, সেবকরা ছিলো সংখ্যায় অনেক বেশী, আর তাদের মাঝারী বয়স ছিল ৪৫ থেকে ৫০ এর মধ্যে৷ এর আগে যখন রাশিয়ায় ছিলাম, এরোফ্লতের বিমানেই চড়েছি অনেকবার, আর এরোফ্লতের বিমান সম্বন্ধে ছিল বেশ উচু ধারণা৷ দেশে ফেরার পর পশ্চিমী গনতন্ত্রের প্রপাগান্ডা আমার মগজ ধোলাই করতে সক্ষম হওয়ায় আমার ধারণা অনেক পাল্টে যায় এরোফ্লতের বিমান সেবার মানের বিষয়ে৷ প্লেনের মধ্যে ঢুকে সব কিছু দেখে সেই ধারণারই পুষ্টি হল৷ লুফ্তহানসা, কেএলএম ইত্যাদিদের তুলনায় সুযোগ সুবিধা অনেক কম, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অভাব, খাবার দাবার ভাল নয়, ইত্যাদি, ইত্যাদি৷ পাতলা কম্বল জড়িয়ে কষে এক ঘুম দিলাম৷ সেই ঘুম ভাঙ্গল মস্কো বিমান বন্দরে নামবার কিছুক্ষণ আগে৷ প্লেনের পেট থেকে বেড়িয়ে এ গলি সে গলি পেরিয়ে ইমিগ্রেশন কাউন্টারের সামনে৷ সকাল ১০টা বাজে, এক সময়ে অনেকগুলে প্লেন এসে নেমেছে, তাই অনেক যাত্রীর ভীড়৷ আমার সাদা পাস্পোর্ট থাকায় একটু সুবিধা হল, সোজা গিয়ে দাড়ালাম ডিপ্লোম্যাটদের কাউন্টারে, সেখানে ভীড় কম অনেক ৷ হ্যাঁ, বলতে ভুলেছি আমি স্ত্রীর সুবাদে ভারত সরকারের দেয়া সাদা রঙের পাস্পোর্ট নিয়ে যাচ্ছি রাশিয়ায়৷ মস্কোর শেরেমিতিয়েভা এয়ারপোর্ট এমন কিছু বদলায়নি৷ আজও মিলিটারী পোশাক পরা ব্যাক্তিরাই পাস্পোর্ট পরীক্ষা করলো আগের মত৷ কাউন্টার থেকে বেরুতে না বেরুতেই এক দঙ্গল ট্যাক্সীওয়ালা আমার পিছু নিল ঠিক দিল্লী কিংবা কলকাতা এয়ারপোর্টের মতই৷ হ্যাঁ, একথা বলে রাখি, এমন ঘটনা সমাজতন্ত্রের আমলে ঘটতনা৷ যদিও ছাত্রাবস্থায় বাসেই আমরা যাতায়াত করতাম বেশী, তবে ট্যাক্সীতে চড়িনি এমন নয়৷ ট্যাক্সীওয়ালারা তখন সরকারী কর্মী, তুমি তার গাড়ীতে চড় বা না চড়, তাতে তার বেশী কিছু আসত যেতনা৷ আমকে মস্কো পৌছে অন্য এক শহরে যেতে হবে প্লেনে, তাই অন্য এক এয়ারপোর্টে যেতে হবে যার নামও শেরেমিতিয়েভা, কিন্তু শেরেমিতিয়েভা-১৷ তার মানে দিল্লি থেকে মস্কোয় আমরা নেমেছি শেরেমিতিয়েভা-২ তে৷
ইন্টারনেটে আগেই জেনেছিলাম যে শেরেমিতিয়েভা-২ থেকে শেরেমিতিয়েভা-১ এ যাবার জন্য বিনামুল্যে বিশেষ বাসের ব্যাবস্থা আছে ৷ তাই আমি নাছোড়বান্দা ট্যাক্সীওয়ালাদের বিশেষ পাত্তা না দিয়ে গট্গট্ করে বাইরে বেরিয়ে এলাম ফ্রি বাসে যাব বলে৷ বাইরে অনেক ভাল ভাল বাস, মিনিবাস দাড়িয়ে আছে৷ ২০ রুবল ভাড়া৷ বলে রাখা ভাল আমাদের আমলে বাসের ভাড়া ছিল ৫ কোপেক৷ ১০০ কোপেকে ১ রুবল৷ ঘন্টা ২ পরে আমাদের ফ্রি বাস এল, খুব ভীড়, বিদেশীরাই বেশী৷ আমরা পৌছে গেলাম ডমেস্টিক এয়ারপোর্ট শেরেমিতিয়েভা-১ এ৷ পরবর্তী প্লেনের জন্য আমাকে ৬ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে৷ ছোট এয়ারপোর্ট, বসার জায়গা কম৷ তারই মধ্যে কাটিয়ে দিলাম কয়েক ঘন্টা৷ খাবার দাবারের ভীষণ দাম৷ আমরা যখন রাশিয়ায় পড়তাম, সস্তার খাবারের দোকান ছিল অনেক৷ রুশ ভাষায় তাদের নাম ছিল স্তালোভায়া৷ সস্তার মানে, খারাপ মানের খাবার নয়৷ স্কুল, কলেজে, হাসপাতালে, পাড়ায় পাড়ায় ছিল অনেক অনেক স্তালোভায়া৷ সেখানে সস্তায় পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যেত৷ সাধারণ দুপুর বা রাতে আমরা খেতাম কম্পোত(শুকনো ফল সিদ্ধ করা জল), সুপ, আলুসিদ্ধ বা ভাত বা ম্যাকারনী দিয়ে মাংস, মাছ বা মুর্গী এবং কোন সুইট ডিশ৷ এই ছিল আম জনতার খাবার, এবং উচু, বড়, মাঝারি সব ধরণের জনতার পক্ষেই স্তালোভায়া ছিল সাধারণ খাবারের জায়গা৷ তবে হ্যাঁ, রেস্তোরাও ছিল, তা ছিল অপেক্ষাকৃত দামী৷

এখন এয়ারপোর্টে অনেকক্ষণ স্তালোভায়া খুঁজলাম, পেলাম না৷ তবে ম্যাকডোনাল্ড ছিল৷ ৩০০ মিলি মিনারেল জল ২৫০ রুবল(আজকাল ১ ডলার-২৫ রবল, ৪০ ভারতীয় টাকা)৷ খাবারের মেনুও গেছে বদলে৷ রাশিয়ায় পরবর্তী ২ মাস এই অবস্থাই দেখেছি৷ সে রাতে ২ ঘন্টার প্লেন যাত্রার পর পৌছে যাই আমার গন্তব্য শহর সিয়েভ্রদ্ভিন্সকে৷ মস্কো থেকে ১২০০ কিমি দুরে, শ্বেত সমুদ্রের পারে ছোট্ট শহর৷ এই শহর থেকেই যাই মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ(পুরানো নাম লেনিনগ্রাড)৷

অনেক মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়৷ চারিদিকে তাকিয়ে খুঁজে বেড়াই আমার দেখা শহর আর দেশ৷ অনেক বদলে গেছে সব কিছু৷ সব লাল রং গেছে হারিয়ে৷ আলোয় আলোময় শহর৷ এখন নীল আর নীল৷ পুটিনের পার্টির পতাকার রঙ নীল আর প্রতীক ভালুক৷ সেন্ট পিটার্সবার্গ আমি বলতে পারিনা, বলতে গেলে লেনিনগ্রাডের নাম মনে আসে৷ পরে দেখলাম শুধু আমারই নয় , এখনো অনেক মানুষ এদেশে ঐ নামই বলেন৷ তাদের জন্ম সোভিয়েত ইউনিয়নে৷

মস্কোর রেড স্কোয়ার, লেনিন সমাধি, ক্রেমলীন, সব তেমনই আছে৷ আবার তেমনই বা কই ৷ সেখানে আলোর অভাব৷ রং নেই৷ বিশ্বায়নের দাপুটেরা, ম্যকডোনাল্ড, কেনটাকি ফ্রাইড চিকেন সব জাঁকিয়ে বসে তাদের আড়াল করেছে৷

এবার প্রথম যেদিন রেড স্কোয়ার গেলাম- সে এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা৷ ঠিক ঢোকার মুখে একি, খৃষ্স্টের মন্দির৷ পাশে ছিল লেনিন মিউজিয়ম, তার সব সাইনবোর্ড উধাও৷ তবে কি লেনিনের সমাধি, তাও আর নেই? সে কথা পরের বার৷
এই লেখাটি আমার ব্লগেও পড়তে পারবেন http://indmusings.blogspot.com/

Read More...
AddThis Social Bookmark Button

Rajiv Gandhi University of Health Sciences Results  

Check Results for RGUHS at
http://www.rguhs.ac.in

Bookmark this site for more information today and always.
=Ostom

Read More...
AddThis Social Bookmark Button

Energy News from the World

Energy News from the World
Editors Pick